গত দু'সপ্তাহ ধরে বিবিসি বাংলার ডিজিটাল মাধ্যমগুলোতে 'তিরিশে ফিনিশ?' নামে একটি ভিডিও সিরিজ প্রচার করা হচ্ছে। এই সিরিজ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে কিছুটা বিভ্রান্তি লক্ষ্য করা গেছে।

অনেকে মনে করছেন, বিবিসিই বলছে নারীরা তিরিশে ফিনিশ হয়ে যায়। কিন্তু আসল ঘটনা ঠিক উল্টা। এই সিরিজের উদ্দেশ্য হচ্ছে সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করা।

আজ শুরু করছি তিরিশে ফিনিশ নিয়ে একটি চিঠি দিয়ে, লিখেছেন ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ:

''বিবিসি বাংলার 'তিরিশে ফিনিশ?: তিরিশের পর নারীর রোমান্স, শারীরিক, মানসিক চাহিদা ও বাস্তবতা' শিরোনামে সংবাদ ও টক শো বেশ সাড়া ফেলেছে বলে মনে হয়। তবে আমার মনে হয় এই বিষয়টি শুধুমাত্র অনগ্রসরদের বেলায়ই প্রযোজ্য। বাংলাদেশের বাস্তবতায় সরকারি সহ অন্যান্য চাকুরিতে প্রবেশের বয়স সীমা ত্রিশ বছর।

''এই সময় অবধি একজন শিক্ষিত নারী চাকুরির চেষ্টা করেন এবং বিয়ে করেন প্রায় তিরিশের কোঠায় গিয়ে। সত্যি বলতে, অধিকাংশ শিক্ষিত নারী তিরিশ থেকেই জীবনকে উপভোগ করতে শুরু করেন বলেই আমার মনে হয়। আপনাদের এই অনুষ্ঠান তাদেরকে আশাহত করবে নাতো আবার?''

আশাহত করার তো কথা নয় মি. সাঈদ। আমাদের সিরিজের উদ্দেশ্যই হচ্ছে তিরিশে ফিনিশের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করা। বিভিন্ন ক্ষেত্রে ত্রিশোর্দ্ধ নারীদের সংগ্রাম এবং সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে প্রমাণ করা হচ্ছে, তিরিশে ফিনিশ কখনোই নয়।

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
আড্ডা: তিরিশের পর নারীর রোমান্স, শারীরিক ও মানসিক চাহিদা ও বাস্তবতা

বিবিসি বাংলার টেলিভিশন অনুষ্ঠান বিবিসি প্রবাহে প্রচারিত প্রতিবেদন নিয়ে মন্তব্য করেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

''ভারত থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ নিয়ে বিবিসি বাংলার টেলিভিশন অনুষ্ঠান প্রবাহে আবুল কালাম আজাদ এর রিপোর্ট দেখলাম। বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ হয়ে যাওয়ার পর অনুপ্রবেশের হার আরও বাড়বে বলেই আমার বিশ্বাস।

''সীমান্তে প্রহরা বাড়িয়ে অনুপ্রবেশ হয়তো বন্ধ করা যাবে কিন্তু যারা পালিয়ে আসতে চাইছে তাদের পরিণতি কি হবে? ভারতে থাকতে পারবে না আবার বাংলাদেশেও প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। কোথায় হবে তাদের ঠিকানা, কী হবে তাদের পরিচয়?''

গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেছেন মি. সরদার। ভারতের এই বিতর্কিত আইন সেদেশে থাকা অনেক লোক, বিশেষ করে মুসলমানদের জীবনে চরম অনিশ্চয়তা নিয়ে আসবে, তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। (বিবিসি প্রবাহর ভিডিও রিপোর্টটি দেখতে চাইলে এই লিঙ্ক-এ ক্লিক করুন)

Image caption কাঁটাতারের বেড়া থাকার পরও অনুপ্রবেশকারীরা নির্বিঘ্নে সীমান্তে অতিক্রম করছে।

দশই ডিসেম্বরের প্রত্যুষা অনুষ্ঠান নিয়ে মন্তব্য করে লিখেছেন সাতক্ষীরা থেকে গাজী মোমিন উদ্দিন:

''প্রত্যুষা শুনছিলাম সকালে। বেশ কিছু খবর দেওয়া হচ্ছিল সূত্রসহ। এখানে ১টি নিউজ ছিল, যে দু'কোটির উপরে মানুষ খাবার পাচ্ছে না বাংলাদেশে। এই খবরটির সূত্র যাই হোক, বাস্তবতা বুঝে খবরটি প্রচার করলে ভাল হতো। কারণ বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ, এখানে খাবার পাচ্ছেনা এটা হতেই পারে না,অন্তত এত বিপুল সংখ্যক মানুষ।''

এই প্রসঙ্গটা এসেছিল পত্রিকা পর্যালোচনার সময়। ঢাকার ইংরেজি দৈনিক দ্য নিউ এইজ-এর বরাত দিয়ে এই খবরটি বলা হয়েছিল মি. মোমিন উদ্দিন। তবে সেখানে কিন্তু বলা হয়নি যে দু'কোটি লোক খাবার পাচ্ছে না। খবরটি ছিল এই যে, বাংলাদেশে দুই কোটি ৩৩ লাখ লোক পর্যাপ্ত খাবার পাচ্ছে না। অর্থাৎ খাবারের মান বা পরিমাণ পর্যাপ্ত নয়।

ছবির কপিরাইট KOEN VAN WEEL Image caption আইসিজের শুনানিতে উপস্থিত অং সান সু চি।

গত বুধবারের রেডিও অনুষ্ঠানের প্রধান খবর নিয়ে মন্তব্য করে লিখেছেন রাজশাহীর দুর্গাপুর থেকে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম থানদার:

''আজ সন্ধ্যার রেডিও অনুষ্ঠান প্রবাহে, রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে অং সান সুচির এমন মিথ্যাচার শুনে আমি অবাক হলাম। এটাকে বিশ্ব মিথ্যাচার বললেও বোধ হয় কম বলা হবে।''

অনেকেই সেরকমই ভাবছেন মি. ইসলাম। তবে মিস সু চিও তাঁর দেশের এবং নিজের রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য যা করার, তাই করছেন বলে আমার মনে হয়।

দ্য হেগ-এ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অং সান সু চির বক্তব্য নিয়ে আরো লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মাহবুবা ফেরদৌসি হ্যাপি:

''অং সান সু চি ১৯৯১ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার অর্জন করার আগে থেকেই গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মূর্ত প্রতীকে পরিণত হয়েছিলেন। কিন্তু সেই অং সান সু চি যখন গণহত্যার মত অপরাধ নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের সামনে মিথ্যাচার করেন, তখন সত্যিই আমাদের লজ্জিত, বিব্রত ও স্তম্ভিত হতে হয়।

''পৃথিবীর ইতিহাসে সম্ভবত তিনিই একমাত্র শান্তিতে নোবেল জয়ী ব্যক্তি, যিনি এ ধরণের জঘন্যতম অন্যায়কে সমর্থন করে নিজের আত্মসম্মান, মর্যাদা ও মূল্যবোধকে বিসর্জন দিয়েছেন। আমরা জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আদালতে এর বিচার চাই।''

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
শান্তির প্রতীক এখন গণহত্যার অভিযোগের বিরুদ্ধে লড়ছেন

আপনার সেন্টিমেন্টের সাথে অনেকেই একমত হবেন মিস ফেরদৌসি। তবে কার্যকরী চাপ সৃষ্টি করতে হলে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হবে। কিন্তু সেখানে চীন এবং রাশিয়া বরাবরই কোন শাস্তিমূলক পদক্ষেপের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে আসছে।

আরেকটি ঘটনা অনেকের সেন্টিমেন্টে আঘাত হেনেছে, সেটি হলো ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন। সে বিষয়ে লিখেছেন পঞ্চগড়ের বড়শশী থেকে মোহাম্মদ উজ্জ্বল ইসলাম:

''গত ৯ই ডিসেম্বর ভারতের পার্লামেন্টে দাবি করা হয় যে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন না-থামাটাই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল আনার অন্যতম কারণ। কিন্তু বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় যতটা শান্তিতে আছে, তার চেয়ে অনেক অনেক অশান্তিতে আছে ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমানরা। নাগরিকত্ব বিলে বলা হয়েছে শুধু অমুসলিমদের নাগরিক হওয়ার সুবিধা থাকবে, কিন্তু মুসলিমরা নাগরিকত্ব পাবেন না। এ কেমন নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল?''

এই আইন নিয়ে ভারতেও প্রতিবাদ হচ্ছে মি. ইসলাম। যদিও এই আইনটি ভারতের মুসলিম নাগরিকদের লক্ষ্য করে করা হয়নি, কিন্তু তারাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে এ'ধরণের আইন সাংবিধানিক কি না, তা নিয়েও বিতর্ক হচ্ছে। এই ক্ষোভ যে আরো বাড়বে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
নাগরিকত্ব আইন: ক্ষোভে ফেটে পড়েছে আসাম, বিল বৈষম্যমূলক বলে অভিযোগ

পরের চিঠি লিখেছেন ঢাকা থেকে মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম:

''স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী রুম্পাকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হলো, অথচ বিবিসি বাংলায় এ নিয়ে কোন প্রতিবেদন নাই। কিন্তু গত কিছু দিন আগে ভারতীয় এক ডাক্তারকে ধর্ষণ করে মারা হল, তা নিয়ে বিবিসি বাংলা অনেক প্রতিবেদন করল। বিবিসি বাংলা কি শুধু ভারতের নারী সহিংসতা নিয়ে কাজ করে, বাংলাদেশ নয়?''

অবশ্যই না মি. ইসলাম। আপনি যদি নিয়মিত বিবিসি বাংলা শুনে থাকেন তাহলে নিশ্চয় জানেন যে বাংলাদেশে নারীদের প্রতি সহিংসতা নিয়ে আমরা নিয়মিত এবং গভীরভাবে সংবাদ পরিবেশন করে থাকি। তবে এটাও ঠিক যে, সব খবর বিবিসি বাংলার রেডিওতে দেয়া সম্ভব না।

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
১৯৯৯ সালে টিএসসিতে ইংরেজি বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে তরুণীর শ্লীলতাহানির ঘটনা নিয়ে সেসময়কার পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের কাটিং।

আমাদের রেডিও অনুষ্ঠান সূচিতে পরিবর্তনের খবর জেনে খুশি হয়ে ঢাকার নদ্দা সরকার বাড়ী থেকে লিখেছেন রফিক সরকার, যিনি তার নামের সাথে প্রাপ্তি স্বীকার শব্দ দুটি জুড়ে দিয়েছেন কারণ তার চিঠির নাকি শুধু প্রাপ্তি স্বীকারই করা হয়:

''রাতের অধিবেশন চালু হবে শুনে যারপরনাই আনন্দিত হয়েছি। মানুষ আগের মত সন্ধ্যা রাতে ঘুমায় না। তাই সাড়ে দশটার অনুষ্ঠান অনেক লোকে শুনতে পারবে।''

আমরাও আশা করছি রাতের শ্রোতারা পুনরায় বিবিসি শুনবেন। আর আপনার নাম থেকে এবার প্রাপ্তি স্বীকার শব্দ দুটি বাদ দিতে পারেন।

পরের চিঠি লিখেছেন মালয়েশিয়ার কুয়ালা লামপুর থেকে মোহাম্মদ বেলাল হোসেন:

''ফোন-ইন অনুষ্ঠানে কি শুধু বাংলাদেশ থেকেই যোগ দেওয়া যায়? নাকি আমরা প্রবাসীরা যেকোনো দেশ থেকে যোগ দিতে পারবো?''

ফোন-ইন শুধু বাংলাদেশি শ্রোতাদের জন্য নয় মি. হোসেন। যে কোন দেশ থেকে আপনি যোগ দিতে পারেন। তবে প্রথমে আপনার নাম টেক্সট করে দিতে হবে যাতে আমাদের সহকর্মীরা অনুষ্ঠানের দিন আপনাকে যোগাযোগ করতে পারে। টেক্সট করবেন এই নাম্বারে: ০১৭১৪ ১১৫৫৭৮।

বিবিসি বাংলা রেডিওর সাপ্তাহিক এই ফোন-ইন অনুষ্ঠানে সম্প্রতি নারী কলারদের অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে, এবং সেটা নিয়ে বেশ কিছু পুরুষ শ্রোতা আপত্তি তুলেছেন। যেমন, ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে কামাল হোসেন মিলন:

''ফোন ইন অনুষ্ঠানে যারা অংশগ্রহণ করেন, তাদের মধ্যে তো বেশি মহিলা ফোনদাতা থাকেন এবং জটিল একটি বিষয়কে এই মহিলা শ্রোতারা বিটিভি'র মতো বিরক্তির ও মানহীন করে ফেলে।''

আপনার কথায় একটু নারী বিদ্বেষের আভাস পাচ্ছি মি. হোসেন, এবং সেটা দেখে আমি দু:খিত। দীর্ঘ কাল ধরে আমাদের ফোন-ইন অনুষ্ঠানে পুরুষ কলারদের এক চেটিয়া আধিপত্য ছিল। এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বদলে অনুষ্ঠানে ভারসাম্য আনার জন্য আমরা সাম্প্রতিক সময়ে নারীদের প্রাধান্য দিচ্ছি। এর ফলে অনুষ্ঠানের মান বিন্দুমাত্র ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে আমরা মনে করি না।

রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে মোহাম্মদ মুশফিকুর রহমান ওলিউল্লাহ:

''গত ৭ই ডিসেম্বর ফোন ইন অনুষ্ঠানে পাঁচজন নারী আর শেষের দিকে শুধু নামপরিচয় বলার জন্য ঢাকা থেকে ইশতিয়াক আনোয়ার ভাইকে সুযোগ দেয়া হলো। আমি জানি যে বছরের ৫২ সপ্তাহের ৫০টিতেই অধিকাংশ কলার পুরুষ হয়। তাই বিবিসি বাংলা দুই একটি অনুষ্ঠানে নারীদের প্রাধান্য দিচ্ছে।

এটি ভালো উদ্যোগ। কারণ এর ফলে ফোন ইন অনুষ্ঠানে নারীদের আগ্রহ বাড়বে ।কিন্তু এটি করতে গিয়ে যদি পুরুষ কলারদের এভাবে ছাঁটাই করা হয়,সেটা কিন্তু একটু বেশিই বাড়াবাড়ি হয়ে যায়। এর ফলে উল্টো পুরুষদের ফোন ইন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা এবং এই অনুষ্ঠান শোনার আগ্রহ কমেও যেতে পারে।''

আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে আমাদের সকল পরিবেশনায় নারী-পুরুষের ভারসাম্য সৃষ্টি করা মি. রহমান। এতদিন যে প্রতিটি অনুষ্ঠানে শতকরা ৭০-৮০ ভাগ পুরুষ কণ্ঠ প্রচারিত হলো, তখন কিন্তু খুব একটা প্রতিবাদ শুনতে পাইনি। কিন্তু এখন ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে কিছু পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে এবং এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থেকে শেখ আব্দুল হাই:

''অক্টোবরের ২৩ তারিখে ছয় জনের ফোন কল নেয়া হল, তার ৫জন ছিল মহিলা। আবার নভেম্বরের ২৯ তারিখে ৫জনের ফোন আলাপ নেওয়া হল তারা ছিল মহিলা। আবার এই মাসের ছয় তারিখে ছয় জনের কল নেয়া হল, তার মধ্যে পাঁচজন ছিল মহিলা। শেষের দিকে একজন পুরুষ ছিল, তাও সময় ছিল মাত্র ২৫ সেকেন্ড। আমার প্রশ্ন হল, বিবিসি কি এখন পক্ষপাতিত্ব করছে অথবা পুরুষ শ্রোতা একেবারে নেই।''

কোনটাই না মি.হাই। আমাদের পুরুষ শ্রোতাই বেশি, তবে আমরা পক্ষপাতিত্বও করছি না। মাসের পর মাস আমাদের ফোন-ইন এ প্রায় সব কলারই পুরুষ ছিলেন, কিন্তু সেটা আপনার কাছে খটকা লাগেনি। কারণ কী? সমাজে নারীদের সংখ্যা তো জনসংখ্যার অর্ধেক, তাহলে রেডিওতে যাদের কণ্ঠ আমরা শুনি, তাদের ৫০ শতাংশ নারী হওয়া উচিত। আমরা এখন সেই ৫০:৫০ ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যেই কাজ করছি।

ঢাকা থেকে এ কে সরকার:

''গত শনিবার আপনাদের ফোন-ইন এর বিষয় ছিল, "বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির আগে ডোপ টেস্ট করানোর সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। আপনি কি মনে করেন?" একটু খেয়াল করলে দেখবেন সেদিন শুধুমাত্র মেয়েদের মতামত নেয়া হয়েছিল। শেষের দিকে একজন ছেলে মতামত দিতে লাগল তাও পারল না সময়ের অভাবে।

''আমাদের দেশে সাধারণত মেয়েরা মাদক নেন না। সোজা কথায় মেয়েরা খুব কম আছেন যারা মাদক নেন। যারা এর বেশি ভোক্তা বা সেবক ছেলে বা পুরুষ তাদের মতামত থাকলে এর অনুষ্ঠানের পূর্ণতা পেত।''

আপনার সাথে একমত হতে পারলাম না মি. সরকার। আগেই যেটা বলেছি, দীর্ঘ সময় ধরে আমরা সব বিষয়ে শুধু পুরুষদের মতামত প্রচার করে এসেছি। কিন্তু সব বিষয়ে পুরুষদের মত নারীদেরও মতামত দেবার অধিকার আছে। আমি বলবো এতদিন আমরা নারীদের মতামতকে অবহেলা করেছি, এখন সেটা শুধরানোর চেষ্টা করছি মাত্র।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক ..

দিলিপ কুমার, ঢাকা।

এস এম.লিয়াকত আলী, রংপুর।

মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, সৈয়দপুর, নীলফামারী।

মোহাম্মদ রেজাউল রহিম, লোহাগড়া, চট্টগ্রাম।

হাসান আল সাইফ, দৌলতপুর,কুষ্টিয়া।

এমদাদুল হক বাদশা, দক্ষিণ বনশ্রী, ঢাকা।

জয় মণ্ডল, মাদারীপুর।

মোহাম্মদ আব্দুর রহিম, মাগুরা।

এনামুল কবির, বগুড়া।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

মোহাম্মদ তৈমুর হুসাইন, বাগেরহাট।

মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান, গেণ্ডারিয়া, ঢাকা।